ভূমিকা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী প্রভূত ক্ষমতা ও মর্যাদা ভোগ করার পাশাপাশি ব্যাপক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কমন্সসভার নেতা ও মুখপাত্র হিসেবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে গণ্য করা হয়। যদিও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কাজের চাপ হ্রাস করার উদ্দেশ্যে কমন্সসভার দৈনন্দিন কার্যপরিচালনার দায়িত্ব অন্য কোনো মন্ত্রীর উপর ন্যস্ত করা হয়, তথাপি দলের নেতা হিসেবে কমন্সসভা পরিচালনার চূড়ান্ত দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীই বহন করেন।
কমন্সসভার নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান মুখপাত্র। অতএব কমন্সসভার নিকট সরকারি নীতিসমূহ ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব তাঁর উপর বর্তায়। তিনি পার্লামেন্টে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাজা বা রাণী কমন্সসভা ভেঙে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যেসব বিষয় বিবেচনা করেন, সেগুলো হলো—
১. মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তিকে অবশ্যই পার্লামেন্টের যেকোনো এক কক্ষের সদস্য হতে হয়। পার্লামেন্টের সদস্য নন—এমন কাউকে মন্ত্রী নিয়োগ করা হলে তাকে ছয় মাসের মধ্যে পার্লামেন্টের সদস্য হতে হয়।
২. প্রধানমন্ত্রী লর্ডসভা থেকেও কয়েকজন মন্ত্রী নিয়োগ করতে পারেন।
৩. প্রধানমন্ত্রী সাধারণত নিজ দলের সদস্যদের মধ্য থেকেই মন্ত্রী নিয়োগ করে থাকেন।
৪. মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়।
৫. মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী রাজা বা রাণীর পরামর্শ বিবেচনায় নিতে পারেন।
উপসংহার: অতএব বলা যায়, কমন্সসভার নেতা হিসেবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পার্লামেন্টে কোন বিষয় আলোচ্য হবে, অধিবেশন কখন আহ্বান করা হবে এবং অধিবেশন কতদিন স্থায়ী হবে—এসব বিষয় মূলত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন