“রাজা কোন অন্যায় করতে পারেন না” – উক্তিটি ব্যাখ্যা কর


প্রশ্ন: “রাজা কোন অন্যায় করতে পারেন না” – উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

ভূমিকা: ব্রিটেনের প্রচলিত একটি ধারণা হল, রাজা কোন অন্যায় করতে পারে না। যদিও এটি প্রথমে বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে, তবে যুগ যুগ ধরে এই ধারণা টিকে আছে। কারণ এটি ব্যক্তি রাজা সম্পর্কে নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক রাজা বা রাজতন্ত্র সম্পর্কিত। প্রথাগতভাবে সরকারি কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীকেই দায়ী হতে হয়, রাজাকে নয়। ফলে আদালতে রাজার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা যায় না।

রাজা কোন অন্যায় করতে পারেন না: “রাজা কোন অন্যায় করতে পারেন না” – এ ধারণাটি বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে, কারণ মানুষ কখনও ভুল বা অন্যায় থেকে মুক্ত নয়। রাজাও রক্তমাংসে গড়া মানুষ, তাই তার পক্ষেও অন্যায় করা সম্ভব। কিন্তু এই উক্তিটি ব্যক্তি রাজার জন্য করা হয়নি; এটি প্রাতিষ্ঠানিক রাজা বা রাজতন্ত্র সম্পর্কিত। রাজার নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই; নিজ দায়িত্বে তিনি কিছুই করেন না। তাই তিনি কোনো অন্যায়ও করতে পারেন না।

ব্রিটেনে প্রথাগত আইন অনুসারে, সরকারি কাজের জন্য রাজাকে দায়ী করা যায় না, বা আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যায় না। যে কোনো সরকারি কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীকে দায়ী থাকতে হয়। এজন্য যে কোনো দলিল বা নির্দেশনার সঙ্গে রাজার স্বাক্ষরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর স্বাক্ষর অবশ্যই থাকতে হয়।

বর্তমানে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার ফলে রাজার নামে সমস্ত কার্য সম্পাদিত হয় মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক। এ প্রসঙ্গে ১৯৪৭ সালের রাজকীয় কার্যবহ আইন উল্লেখযোগ্য। এ আইন অনুযায়ী, রাজার নামে কোনো অবৈধ বা অন্যায় কাজ হলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়ী থাকতে হয়।

উপসংহার: অতএব বলা যায়, রাজা কোনো অন্যায় করতে পারেন না। কারণ সরকারি কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হয় – রাজাকে নয়। সিডনী লো (Sidney Low) তাই রাজাকে “কাজের সুবিধার জন্য একটি অনুমান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফলে বলা যায়, রাজা ন শুধুমাত্র অন্যায় করতে পারেন না, বরং অন্যায় চিন্তাও করতে পারেন না।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন