ভূমিকা : বিংশ শতকের ষাটের দশক থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা তুলনামূলক রাজনীতির আলোচনার সূত্রপাত করেন। এর পূর্বে এটি “তুলনামূলক সরকার” নামে পরিচিত ছিল। তুলনামূলক রাজনীতির কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে প্রচলিত বা গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে আলাদা করে। এসব বৈশিষ্ট্য তুলনামূলক রাজনীতির প্রকৃতি ও গুরুত্বকেও প্রতিফলিত করে।
তুলনামূলক রাজনীতির দু’টি বৈশিষ্ট্য :
১. তত্ত্বগঠন : তুলনামূলক রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তত্ত্বগঠন। এ ক্ষেত্রে একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলোচনা শুরু করার আগে একটি তত্ত্ব বা ধারণাগত কাঠামো নির্ধারণ করেন। এরপর উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এভাবে সমস্যার প্রকৃতি, ব্যাপ্তি এবং সমাধান সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। তুলনামূলক রাজনীতি গবেষণায় অ্যালমন্ড ও তাঁর সহযোগীরা তত্ত্বগঠন ও কৌশল গ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
২. বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি : তুলনামূলক রাজনীতির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি। এতে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও কাঠামোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়। যেমন—আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও পদমর্যাদার তুলনা করা। এভাবে এটি সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে কার্যকারিতা ও পার্থক্য বিশ্লেষণ করে।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, তুলনামূলক রাজনীতির বহু বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তত্ত্বগঠন ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে তুলনামূলক রাজনীতি তার বিস্তৃত পরিধি ও বৈশিষ্ট্যের কারণে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

إرسال تعليق