ভূমিকা: ব্রিটেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজা বা রাণী এক বিশিষ্ট পদমর্যাদার অধিকারী। তত্ত্বগতভাবে এরা বিপুল ক্ষমতার অধিকারী এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রধান। কিন্তু কার্যগত দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ব্যক্তি রাজা বা রাণী এসব ক্ষমতা স্বতঃসিদ্ধভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসেবে তারা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীর নিয়োগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করেন।
রাজা রাজত্ব করেন, শাসন করেন না: তত্ত্বগতভাবে, রাজতন্ত্রই সকল ক্ষমতার উৎস। যাবতীয় সরকারি কাজ রাজার নামে সম্পাদিত হয়। রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে নিযুক্ত ব্যক্তিরা রাজার কর্মচারী মাত্র। আইনত, রাজা হলেন সার্বভৌম। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সার্বভৌম ক্ষমতা ব্রিটেনের জনগণের হাতে ন্যস্ত। জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
জনগণের প্রতিনিধি মন্ত্রিসভার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা ও অনিচ্ছা বাস্তবে রূপায়িত হয়।
রাজা শাসন বিভাগের প্রধান, পার্লামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ব্যাপক বিচার বিভাগের ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু ব্যক্তি রাজা এ সব ক্ষমতার অধিকারী নন। এগুলো রাজপদ বা প্রাতিষ্ঠানিক রাজার ক্ষমতা। বর্তমান পার্লামেন্টারীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সর্বশক্তিমান রাজা নিয়মতান্ত্রিক শাসকে পরিণত হয়েছেন।
কার্যক্ষেত্রে রাজার নামে শাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে। কেবিনেটের পরামর্শ ও সমর্থন ছাড়া ব্যক্তি রাজার কোনো কার্যকর ক্ষমতা নেই।
রাজা বা রাণী কোনো আইন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বা কোনো আইনের প্রয়োগ বাতিল করতে পারেন না। সমস্ত সরকারি কাজ রাজার নামে হলেও প্রকৃত ক্ষমতা প্রয়োগ করে মন্ত্রিসভা।
উপসংহার: অতএব বলা যায়, বর্তমান ব্রিটেনে রাজা প্রকৃত প্রধান নির্বাহী নন, বরং শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক ও উপাধিস্বরূপ প্রধান নির্বাহী। রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা তত্ত্বগতভাবে রাজশক্তি বা রাজতন্ত্রের হাতে ন্যস্ত। এই ক্ষমতা রাজার নামে প্রয়োগ করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে তা প্রয়োগ করেন তার মন্ত্রিগণ। সেজন্য বলা হয়, ব্রিটেনে রাজা রাজত্ব করেন, কিন্তু শাসন করেন না।

إرسال تعليق