রাজকীয় বিশেষাধিকার বলতে কি বুঝ?


প্রশ্নঃ রাজকীয় বিশেষাধিকার বলতে কি বুঝ?

ভূমিকা : তত্ত্বগত দিক থেকে ব্রিটিশ রাজশক্তি বিপুল ক্ষমতার অধিকারী। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সকল কার্যক্রম রাজা বা রানীর নামেই সম্পাদিত হয়। শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ব্রিটেনের রাজশক্তির এ বিপুল ক্ষমতার উৎস দুটি। এ দুটি উৎসের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল রাজকীয় বিশেষাধিকার। সাধারণত, ব্রিটেনের চিরাচরিত প্রথার ভিত্তিতে গড়ে উঠা ক্ষমতাসমূহকে রাজকীয় বিশেষাধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়।

রাজকীয় বিশেষাধিকার : রাজকীয় দায়দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, আয়োজন, নীতি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য অধিকতর ক্ষমতার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি থেকে ব্রিটেনের শাসনব্যবস্থায় প্রথাগত আইনের অংশ হিসেবে সকল রাজা বা রানী ধারাবাহিকভাবে কতকগুলো অধিকার ভোগ করেন। এগুলোকে ব্রিটেনের রাজকীয় বিশেষাধিকার বলা হয়।

প্রামাণ্য সংজ্ঞা : রাজকীয় বিশেষাধিকার সম্পর্কিত ধারণা কিছুটা অস্পষ্ট, তাই এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। নিম্নে কয়েকটি সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলো :

Blackstone বলেছেন, “রাজশক্তির বিশেষাধিকার হলো সেসব ক্ষমতা, যেগুলোর ভিত্তিতে রাজকীয় মর্যাদা অনুসারে অন্যান্য সকলের উপর রাজার বিশেষ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যেগুলো প্রথাগত আইনের বাইরে থাকে।”

Prof. Dicey সংজ্ঞায়িত করেছেন, “The residue of discretionary or arbitrary authority which at any time is legally left in the hands of the Crown।”

মূলত, ব্রিটেনের শাসনব্যবস্থায় প্রথাগত আইনের অংশ হিসেবে সকল রাজা বা রানী ধারাবাহিকভাবে কতকগুলো অধিকার ভোগ করে থাকেন। এগুলোই ব্রিটেনের রাজকীয় বিশেষাধিকার নামে পরিচিত।

উপসংহার : অতএব বলা যায়, বিশেষাধিকার আইনত রাজার হাতে ন্যস্ত। তবে প্রথা এবং সাংবিধানিক রীতিনীতি অনুসারে এটি অন্যদের মাধ্যমে এবং অন্যের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয়। মূলত, বিশেষাধিকার বলতে শাসন বিভাগ কর্তৃক প্রয়োগিত স্ববিবেচনামূলক ক্ষমতাকে বোঝায়, যা রাজশক্তি বা তার অধীনস্থ ব্যক্তি ও পদাধিকারীগণ পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের অনুমোদন ছাড়াই প্রয়োগ করতে সক্ষম।

Post a Comment

أحدث أقدم