প্রশ্ন : কমনওয়েলথ সম্পর্কিত সাংবিধানিক রীতিনীতি আলোচনা কর।
ভূমিকা : ব্রিটিশ সংবিধানের অন্যতম প্রধান উৎস হলো সাংবিধানিক রীতিনীতি। এসব রীতিনীতির উপরই ইংরেজ জাতির শাসনব্যবস্থা আবর্তিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। সাংবিধানিক রীতিনীতি বা প্রথা বাদ দিয়ে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার পরিপূর্ণ পরিচয় পাওয়া সম্ভব নয়। ব্রিটিশ শাসনতান্ত্রিক কাঠামোকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে সাংবিধানিক প্রথার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
কমনওয়েলথ সম্পর্কিত সাংবিধানিক রীতিনীতি : কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক মূলত সাংবিধানিক রীতিনীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞ জেনিংস কমনওয়েলথ সম্পর্কিত সাংবিধানিক রীতিনীতিগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এসব রীতিনীতি নিম্নরূপ—
১. কোনো ডোমিনিয়নের গভর্নর-জেনারেল নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজা বা রানী সংশ্লিষ্ট ডোমিনিয়নের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।
২. কোনো ডোমিনিয়নের রাজার উত্তরাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডোমিনিয়নের আইনসভার পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।
৩. কোনো ডোমিনিয়নের অনুরোধ ব্যতীত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সেই ডোমিনিয়নের জন্য কোনো আইন প্রণয়ন করবে না।
৪. ডোমিনিয়ন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসারেই গভর্নর-জেনারেল তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন।
৫. ডোমিনিয়নে নিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল রাজা বা রানীর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন; তিনি ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি নন।
৬. কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রীদের সম্মেলন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
উপসংহার : আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, উপর্যুক্ত প্রথা বা রীতিনীতিগুলো ব্রিটিশ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রথাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ব্রিটিশ সংবিধান অলিখিত হওয়ায় এর একটি বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে এসব প্রথা বা রীতিনীতি। মূলত এই সাংবিধানিক রীতিনীতির উপর ভিত্তি করেই ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থা আবর্তিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

إرسال تعليق