ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ প্রক্রিয়া উল্লেখ কর

 


প্রশ্ন : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ প্রক্রিয়া উল্লেখ কর।

ভূমিকা: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ কেবিনেট ব্যবস্থার মধ্যমণি। তাঁকে কেবিনেট স্থাপত্যের প্রধান প্রস্তর বলে আখ্যায়িত করা হয়। কেবিনেট ব্রিটেনের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্র এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন কেবিনেটের কেন্দ্রবিন্দু। কমন্সসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে, কেবিনেটের সভাপতি হিসেবে, সমকক্ষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান হিসেবে এবং ব্রিটেনের প্রধান নাগরিক হিসেবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী শাসনব্যবস্থায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ প্রক্রিয়া:
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে কোনো লিখিত সাংবিধানিক বা সংসদীয় আইন নেই। তাঁর নিয়োগ সম্পূর্ণরূপে সাংবিধানিক রীতিনীতি ও প্রথাগত আইনের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ব্রিটেনের রাজা বা রানীর প্রধান দায়িত্ব হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা।

সাংবিধানিক রীতিনীতি অনুযায়ী কমন্সসভার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রীকেই রাজা বা রানী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করে থাকেন। তবে কমন্সসভায় যদি কোনো দল একক ও সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে রাজা বা রানী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে নিজস্ব বিচার-বিবেচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ রাজা বা রানীর স্ববিবেচনামূলক ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।

তবে কোনো দল যদি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হয়, সে ক্ষেত্রে রাজা বা রানীর স্ববিবেচনা প্রয়োগের কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনা থাকে না।

উপসংহার: অতএব বলা যায়, নিয়মানুযায়ী পার্লামেন্টের যে কোনো কক্ষের সদস্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে কমন্সসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর রাজা বা রানী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে কেবিনেট গঠন করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। এভাবেই ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ লাভ করেন।

Post a Comment

أحدث أقدم