ভূমিকা: উদারনৈতিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ব্রিটেনের সংবিধানের একটি অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো আইনের অনুশাসন (The Rule of Law)। যদিও আইনের অনুশাসন একটি প্রাচীন নীতি, তথাপি ব্রিটিশ সংবিধানেই এটি সর্বপ্রথম সুসংহতভাবে সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে। ব্রিটিশ নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রধান রক্ষাকবচ হলো এই আইনের অনুশাসন। রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে স্বেচ্ছাচারিতা থেকে রক্ষা করে আইনের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই এর মূল উদ্দেশ্য।
আইনের অনুশাসনের নীতিসমূহ: ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় আইনের অনুশাসনের কয়েকটি অপরিহার্য নীতি পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে সেগুলো আলোচনা করা হলো—
১. আইনের জ্ঞান লাভের অধিকার: প্রত্যেক নাগরিককে আইন সম্পর্কে সুষ্ঠু ও স্পষ্টভাবে জানার সুযোগ থাকতে হবে, যাতে সে নিজের কাজকর্ম আইনসম্মতভাবে পরিচালনা করতে পারে। আইন গোপন বা অস্পষ্ট হলে আইনের অনুশাসন কার্যকর হয় না।
২. ব্যক্তিস্বাধীনতায় আইনসম্মত হস্তক্ষেপ: ব্যক্তির স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কেবলমাত্র আইনের মাধ্যমে এবং আইনের সীমার মধ্যেই হতে হবে। এ নীতির কয়েকটি দিক হলো—
ক. সরকার বা তার যে কোনো কর্মকর্তার কার্যক্রম অবশ্যই আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে।
খ. কোনো কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাচারীভাবে ব্যক্তির জীবনযাত্রায় বাধা দিতে পারবে না।
গ. আইন ভঙ্গ না করলে কোনো নাগরিককে গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না—এ বিষয়ে নাগরিককে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৩. শাস্তি প্রদানে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: কোনো নাগরিককে শাস্তি দিতে হলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অবশ্যই আইনানুগভাবে ও নিরপেক্ষ আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। আদালতের রায় ব্যতীত কাউকে দোষী সাব্যস্ত বা শাস্তি দেওয়া যাবে না।
৪. ন্যায়বিচারের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা: ন্যায়বিচারকে অবশ্যই তার নিজস্ব লক্ষ্য ও নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে। আইনকে যেভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে সেভাবেই তার ব্যাখ্যা করতে হবে। পার্লামেন্ট বা সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী আইনকে বিকৃতভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।
উপসংহার: অতএব বলা যায়, আইনের অনুশাসনের এসব অপরিহার্য নীতির মাধ্যমেই রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, সমতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। এই নীতিসমূহ জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নাগরিক অধিকার ও আইনের অনুশাসন পরস্পর ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি।

إرسال تعليق