ভূমিকা : উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ব্রিটেনের বিচার বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত একটি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের ক্রমবিকাশের ধারায় ব্রিটেনের বিচারব্যবস্থার ক্রমবিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে ব্রিটেনে যে বিচারব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়, তা একদিনের ফসল নয়; বরং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে তা বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে।
ব্রিটেনের বিচারব্যবস্থার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ : নিম্নে ব্রিটেনের বিচারব্যবস্থার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা করা হলো :
ক. প্রাথমিক যুগ : ব্রিটেনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো বিচারব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগে। মূলত প্রাথমিক যুগে ব্রিটেনের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে উল্লেখ করার মতো তেমন কিছুই ছিল না। অনেকে মনে করেন যে, ম্যাগনা কার্টা স্বাক্ষরের পর যখন রাজাগণ কতকগুলো শর্ত মেনে নিলেন এবং নাগরিকদের কিছু কিছু অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের সুযোগ দিতে রাজি হলেন, তখন থেকেই ব্রিটেনে আইন-সম্পর্কিত ধারণার সৃষ্টি হয়।
খ. মধ্যযুগ : প্রাথমিক যুগের বিচারব্যবস্থার তুলনায় মধ্যযুগের বিচারব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়। নিম্নে যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন সাধিত হয়, তা উল্লেখ করা হলো :
১. সাধারণ আইন-সংক্রান্ত মতবাদ
২. ভাসমান আদালত
৩. তৃতীয় শ্রেণির আদালত
৪. নৌবিষয়ক আদালত
গ. আধুনিক যুগ : ১৮৭৩-১৮৭৫ সালে ব্রিটেনে যে বিচারব্যবস্থার জন্মলাভ হয়েছিল, তা এখনও প্রচলিত রয়েছে। Judicature Acts অনুসারে পুরাতন ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন আধুনিক বিচারব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে নতুন নতুন আইন প্রণীত হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারব্যবস্থা গৃহীত হয় এবং হাইকোর্ট ও আপিল কোর্ট এ ব্যবস্থার অধীনে আসে। এর ফলে ব্রিটেনের বিচারব্যবস্থা এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করে। আধুনিক যুগে বিচার বিভাগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা :
১. হাইকোর্টের বিভক্তিকরণ
২. আপিল বিভাগ স্থাপন
উপসংহার : অতএব বলা যায় যে, দীর্ঘদিনের ক্রমবিকাশ ও ক্রমপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের বিচারব্যবস্থা বর্তমান রূপ লাভ করেছে। নাগরিক অধিকার রক্ষা, অপরাধীর শাস্তি প্রদান এবং অত্যাচার থেকে নিরপরাধ জনগণকে মুক্ত করতে বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন