প্রশ্নঃ ব্রিটিশ দেওয়ানি আদালতের সংগঠন বর্ণনা কর।
ভূমিকা : ব্রিটেনের বিচারব্যবস্থা দেওয়ানি ও ফৌজদারি—এ দুইটি শাখায় বিভক্ত। দেওয়ানি আদালতে ব্যক্তিগত অধিকার, দাবিদাওয়া ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিবাদের মীমাংসা করা হয়। ফৌজদারি মামলায় এক পক্ষ থাকে রাষ্ট্রপক্ষ; কিন্তু দেওয়ানি মামলায় তা থাকে না।
দেওয়ানি আদালতের সংগঠন : নিম্নে দেওয়ানি আদালতের সংগঠন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. কাউন্টি আদালত : ব্রিটেনে দেওয়ানি আদালতের সর্বনিম্ন আদালত হলো কাউন্টি আদালত। এ আদালত গঠিত হয় ১৮৪৬ সালে। একজন বিচারকের দ্বারা এ আদালতের বিচারকার্য সম্পাদিত হয়। এ আদালতে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ অর্থ-সংক্রান্ত দাবিদাওয়ার বিচার করা হয়।
২. হাইকোর্ট অব জাস্টিস : দেওয়ানি মামলায় কাউন্টি আদালত থেকে আপিল করা হয় হাইকোর্ট অব জাস্টিসে। এ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৩ সালে। অপেক্ষাকৃত অধিক মূল্যের সম্পত্তি বা অর্থ-সম্পর্কিত দেওয়ানি মামলার বিচার এ আদালতে হয়ে থাকে। এ আদালতের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা :
ক. রাজা বা রানীর বিভাগ
খ. চ্যান্সারি বিভাগ
গ. পারিবারিক বিভাগ
৩. আপিল আদালত : হাইকোর্টের উপর্যুক্ত তিন বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আদালতে আপিল করা যায়। লর্ড চ্যান্সেলরের সভাপতিত্বে উচ্চ আদালতের কয়েকজন বিচারপতিকে নিয়ে আপিল আদালত গঠিত হয়। এ আপিল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে লর্ডসভায় আপিল করা যায়। লর্ডসভাই হলো ব্রিটেনের সর্বোচ্চ আপিল আদালত।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা ব্রিটেনের দেওয়ানি আদালত সম্পর্কে যথাযথ ধারণা লাভ করতে পারি। ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থায় দেওয়ানি আদালতের তিনটি স্তর রয়েছে। এ তিনটি স্তরের আদালত বিভিন্ন ধরনের বিচারকার্য সম্পাদন করে।

إرسال تعليق