ব্রিটেনের প্রশাসন ও মন্ত্রীদের সম্পর্কে আলোচনা কর


প্রশ্ন: ব্রিটেনের প্রশাসন ও মন্ত্রীদের সম্পর্কে আলোচনা কর।

ভূমিকা : উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাগণ সরকারি কাজকর্মে তাদের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা, বিচক্ষণতা এবং অর্জিত দক্ষতার সাহায্যে নীতিনির্ধারণের ব্যাপারে মন্ত্রীদের সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেন। তাই উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেসামরিক প্রশাসন ও মন্ত্রীদের সম্পর্ক : নিম্নে বেসামরিক প্রশাসন ও মন্ত্রীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

১. মন্ত্রীরা সক্রিয় রাজনীতির মানুষ। সরকারি নীতিনির্ধারণ, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় খুঁটিনাটিভাবে বিশ্লেষণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে মন্ত্রীরা বিভাগীয় আমলাদের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।

২. সংসদীয় শাসনব্যবস্থার সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে মন্ত্রীদের সাথে বিভাগীয় আমলাদের প্রীতিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের কথা বলা হয়। মন্ত্রী এবং দপ্তরের আমলাদের মধ্যে সদ্ভাব না থাকলে সরকারি কার্য পরিচালনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্রিটেনের সংসদীয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য।

৩. রিচার্ড রোজের মতে, মন্ত্রী এবং আমলারা প্রত্যেকেই একে অপরের প্রয়োজন অনুভব করেন। যখন কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়, মন্ত্রী তখন আমলাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য বিকল্প সম্পর্কে পরামর্শ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, আমলারা মন্ত্রীর কাছে সুস্পষ্ট মনোভাব, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা, সমালোচনায় অবিচল থাকা এবং সিদ্ধান্তে অটল থাকার দৃঢ়তা প্রত্যাশা করেন।

৪. সরকারি নীতিনির্ধারণের জন্য বিভিন্ন তথ্যের প্রয়োজন হয়। এসব তথ্য সংগ্রহ করা মন্ত্রীদের পক্ষে কষ্টসাধ্য। এক্ষেত্রে আমলারা মন্ত্রীদের বিভিন্ন তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে থাকে।

৫. মন্ত্রীরা যাতে পার্লামেন্টে বা পার্লামেন্টের বাইরে কোনো অস্বস্তিকর অবস্থায় না পড়েন, সেদিকে আমলারা বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখেন।

৬. ব্রিটেনের প্রত্যেক মন্ত্রীকেই তার কাজের জন্য নির্বাচকমণ্ডলীর নিকট জবাবদিহি করতে হয় এবং এর উপর তাদের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে মন্ত্রীরা যাতে কোনো ঝামেলায় না পড়েন, সেদিকে আমলারা বিশেষ দৃষ্টি রাখেন। তারা বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ, তথ্যের সঠিক বিন্যাস এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে মন্ত্রীদের অবগত করে থাকেন।

৭. শাসনব্যবস্থার সুবিধার্থেই মন্ত্রী ও আমলাদের মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক তা সাধারণত অপ্রকাশিত থাকে। তবে বর্তমানে দেখা যায় যে, উভয়ের মধ্যে বৈরী মনোভাবও পরিলক্ষিত হয়। এ সত্য ব্রিটেনের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, দপ্তর পরিচালনার জন্য আমলা ও মন্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের নিয়ে দপ্তর গঠিত হয়। মন্ত্রী দপ্তরের নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিযুক্ত থাকেন এবং আমলারা বিশেষজ্ঞ হিসেবে দপ্তরের কার্যপরিচালনায় সহায়তা করেন।

Post a Comment

أحدث أقدم