প্রশ্ন: কাঠামো কার্যগত পদ্ধতি বলতে কী বুঝ?
ভূমিকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাজনীতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যতগুলো নতুন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে, কাঠামো কার্যগত পদ্ধতি তাদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় একটি তত্ত্ব। এ তত্ত্বের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোন কার্য কোন কাঠামোর মাধ্যমে সম্পাদিত হয় তার ভিত্তিতে রাজনীতি ব্যাখ্যা করা হয় এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ পরিচালনা করা হয়। ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে ট্যালকট পারসন্স এ তত্ত্বের বিকাশে অবদান রাখলেও ১৯৬০ সালে প্রকাশিত গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জেমস কোলম্যান সম্পাদিত The Politics of the Developing Areas গ্রন্থটি এ তত্ত্বের বিকাশে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে অ্যালমন্ড ও পাওয়েলের Comparative Politics: A Developmental Approach গ্রন্থের মাধ্যমে এ তত্ত্বের সর্বাধিক বিকাশ ঘটে।
কাঠামো কার্যগত পদ্ধতির ধারণা: কোনো সমাজব্যবস্থার কার্যকলাপকে পর্যালোচনা করা এবং সমাজব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে তা বাস্তবে প্রয়োগের উপযোগিতা নির্ধারণ করাই হলো কাঠামো কার্যগত পদ্ধতির উদ্দেশ্য। এজন্য প্রথমে কাঠামো এবং কার্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
-
S. P. Varma বলেছেন: “Structures refer to those arrangements within the system which perform the functions.”
-
ডেভিড আপ্টার তাঁর Rethinking Development গ্রন্থে কাঠামোকে একাধিক অর্থে ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, “প্রয়োজনীয় কার্যসম্পাদনকারী প্যাটার্নসমূহকে কাঠামো বলে। কাঠামো হলো বিন্যস্ত প্যাটার্নসমূহের সমষ্টি।” তবে কাঠামো কার্যগত পদ্ধতিতে শব্দটি মূলত প্রথম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
-
J. B. Powell বলেছেন: “কাঠামো বলতে সেসব পর্যবেক্ষণযোগ্য ক্রিয়াকলাপকে বোঝায়, যাদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠিত হয়।”
-
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল বলেছেন: “By structure we mean the observable activities which make up the political system.”
প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
-
ওরান ইয়ং (Oran Young) বলেছেন: “The objective consequences of a pattern of action for the system in which it occurs.”
-
মের্টন ক্যাপলান (Merton Kaplan) বলেছেন: “কার্য হচ্ছে সেই পর্যবেক্ষণযোগ্য ফলাফল, যেগুলো একটি ব্যবস্থায় সামঞ্জস্য বিধান করে।”
বিশ্লেষণ: কাঠামো কার্যগত পদ্ধতির মূল বক্তব্য হলো—এটি কেবল কাঠামোর বর্ণনা দেয় না; বরং কাঠামো যে কার্য সম্পাদন করে তার ভিত্তিতে সেই কাঠামোর বিশ্লেষণ করে। যখন কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে এর কার্যাবলির উপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন তাকে কার্যভিত্তিক পদ্ধতি বলা হয়।
উপসংহার: আলোচনার পর বলা যায়, রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা এর কাঠামোর প্রকৃত পরিচয় প্রদান করতে কাঠামো কার্যগত পদ্ধতি কেবল কার্যাবলির উপর নির্ভরশীল নয়; বরং এর পাশাপাশি কাঠামোর গঠনগত দিকগুলোকেও বিশ্লেষণ করে। এজন্যই এর নামকরণ করা হয়েছে কাঠামো কার্যগত পদ্ধতি।

إرسال تعليق