ভূমিকা: কোনো বিধিবদ্ধ আইন বা দলিলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ না থাকলেও বাস্তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী। তিনি তাঁর এই ক্ষমতার বলে শাসনব্যবস্থার নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন। বর্তমানে পার্লামেন্ট প্রণীত বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে তাঁর ক্ষমতা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব ও গুরুত্ব অপরিসীম।
পদমর্যাদা: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় সর্বাধিক ক্ষমতাশালী, গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি। শাসনতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শাসক হিসেবে বিবেচিত। তিনি সরকারের জন্ম, জীবন ও মৃত্যুর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক লাস্কি বলেছেন— “The Prime Minister is central to its birth, central to its life and central to its death.”
সমগ্র কেবিনেট প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা মৃত্যুবরণ করলে সাধারণত সমগ্র কেবিনেটের অবসান ঘটে। এজন্য লর্ড মর্লি মন্তব্য করেছেন— “The Prime Minister is the keystone of the cabinet arch.”
র্যামসে মুইর (Ramsay Muir) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে “the real working head of the state” বলে অভিহিত করেছেন। আবার অধ্যাপক গ্রিভস (Greaves) বলেছেন— “The government is the master of the country and the Prime Minister is the master of the government.”
কেবিনেটের সভাপতির পদ লাভ, পার্লামেন্টের নেতৃত্ব প্রদান, রাজা বা রানীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করা, দলীয় নেতৃত্ব প্রদান এবং সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হওয়া—এই সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর প্রাধান্য সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। তাঁর এই অসামান্য গুরুত্বের কারণে অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ব্রিটেনের শাসনব্যবস্থাকে কেবিনেট শাসনব্যবস্থা না বলে ‘প্রধানমন্ত্রী শাসিত শাসনব্যবস্থা’ বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করেন।
উপসংহার: উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি অত্যন্ত ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই অধ্যাপক জেনিংস (Prof. Jennings) মন্তব্য করেছেন— প্রধানমন্ত্রী কেবল সমমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম নন কিংবা ক্ষুদ্রতর তারকাদের মাঝে চাঁদ নন; বরং তিনি একটি সূর্যের ন্যায়, যার চারদিকে অন্যান্য গ্রহসমূহ আবর্তিত হয়।

إرسال تعليق