ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কী কী পদ্ধতিতে বিল পাস হয়?


প্রশ্ন: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কী কী পদ্ধতিতে বিল পাস হয়?

ভূমিকা : আইন প্রণয়ন, পরিবর্তিত অবস্থার সাথে সরকারি নীতি ও কার্যাবলির সামঞ্জস্য বিধান করাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পুরাতন আইন সংশোধন ও নতুন নতুন আইন প্রণয়নও পার্লামেন্টের দায়িত্ব। আইনের খসড়াকেই বিল বলা হয়। রাষ্ট্রশক্তির নিকট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিল আইনে পরিণত হয়।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিল পাসের পদ্ধতি : ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যেসব বিল উত্থাপিত হয়, বিষয়বস্তুর বিচারে সেগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

১. সাধারণ স্বার্থসংক্রান্ত বিল : জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিলকেই সাধারণ স্বার্থসংক্রান্ত বিল বলা হয়। পার্লামেন্টের ভিতর থেকে বা যে কোনো গোষ্ঠীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এ বিলের সৃষ্টি হয়। সাধারণ স্বার্থসংক্রান্ত বিলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
ক. সরকারি বিল
খ. বেসরকারি বিল
গ. অর্থ বিল

২. বিশেষ স্বার্থসংক্রান্ত বিল পাসের পদ্ধতি : বিশেষ স্বার্থসংক্রান্ত বিল বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর সাথে জড়িত। এ বিলকে প্রাইভেট বিলও বলা হয়। এ বিল উত্থাপনের পর প্রথম পাঠ শেষ হলে দ্বিতীয় পাঠে বিলটি জাতীয় নীতির পরিপন্থী কি না তা যাচাই করা হয়। অবশেষে মুখবন্ধ গৃহীত হলে বিলের অন্যান্য ধারা সম্পর্কে বিচার চলে এবং পরিশেষে কমিটি সংশ্লিষ্ট কক্ষের কাছে রিপোর্ট প্রদান করে।

উল্লিখিত বিল ছাড়াও আর এক প্রকারের বিলের অস্তিত্ব ব্রিটেনের পার্লামেন্টে রয়েছে, সেটি হলো—

৩. দ্বিজাতীয় বিল (Hybrid Bill) : দ্বিজাতীয় বিলকে হাইব্রিড বিল বলা হয়ে থাকে। এ বিলের প্রথম ও দ্বিতীয় পাঠ শেষ হলে বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। হাইব্রিড বিল দ্বারা কোনো ব্যক্তি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে সে বিলের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে পারে।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিল পাসের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিল পাসের পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ বিল পাসের মাধ্যমেই তা আইনে পরিণত হয়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন