প্রশ্ন: ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব বলতে কী বুঝ?ভূমিকা : পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বকে ব্রিটিশ শাসনতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভরূপে গণ্য করা হয়। প্রাচীনত্ব, ক্ষমতার পরিধি, প্রয়োগক্ষেত্রের ব্যাপ্তি প্রভৃতি দিক থেকে বিচার করলে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পৃথিবীতে অনন্য। ব্রিটেনের সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর পার্লামেন্টের নিরঙ্কুশ আইনগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত।
পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব : পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব বলতে আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের নিরঙ্কুশ, অবাধ ও চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়, যার ফলে কোনো ব্যক্তি, আদালত বা প্রতিষ্ঠান পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত আইনের বৈধতা ও সাংবিধানিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে না।
গ্রেট ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত। সুতরাং লিখিত আইন অনুযায়ী পার্লামেন্টের সার্বভৌম মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ব্রিটেনের শাসনতান্ত্রিক অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মতো পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বও সুদীর্ঘকালের ক্রমবিকাশের ফল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন এবং সাংবিধানিক রীতিনীতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ১৬৮৮ সালের গৌরবময় বিপ্লবের মাধ্যমে সর্বপ্রথম পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আইনগত সার্বভৌমত্ব বলতে মূলত কমন্সসভার সার্বভৌম ক্ষমতাকে বোঝায়। রাষ্ট্রব্যবস্থায় যার হাতে আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে, আইনগত দিক থেকে সেই ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষই সার্বভৌম। ব্রিটেনে আইন প্রণয়নকারী একমাত্র সংস্থা হলো পার্লামেন্ট। সুতরাং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাতেই আইনগত সার্বভৌমত্ব ন্যস্ত রয়েছে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ব্রিটেনের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পার্লামেন্টের এ আইনগত প্রাধান্য একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এ সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতিফলন ঘটেছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে K. C. Wheare যথার্থই মন্তব্য করেছেন, “The Supremacy of Parliament is the cornerstone of the British Constitution.”
إرسال تعليق