লর্ডসভার সদস্যদের বিশেষাধিকার কী কী?


প্রশ্ন: লর্ডসভার সদস্যদের বিশেষাধিকার কী কী?

ভূমিকা : পার্লামেন্টীয় শাসনব্যবস্থার পীঠস্থান হলো ব্রিটেন। আর এ ব্রিটেনের পার্লামেন্ট দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নাম লর্ডসভা। লর্ডসভা প্রধানত উত্তরাধিকারসূত্রে গঠিত হয়ে থাকে। এ কক্ষের কোনো সদস্যই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনসাধারণের দ্বারা নির্বাচিত নন। নির্বাচিত না হলেও লর্ডসভার সদস্যদের কতকগুলো বিশেষাধিকার রয়েছে।

লর্ডসভার সদস্যদের বিশেষাধিকার : লর্ডসভার সদস্যগণ কতকগুলো বিশেষ অধিকার ভোগ করে থাকেন। নিম্নে এ বিশেষাধিকারগুলো তুলে ধরা হলো :

১. লর্ডসভার সদস্যগণ কক্ষের মধ্যে বক্তৃতা প্রদানের স্বাধীনতা ভোগ করেন। কক্ষের বাইরে তারা যেসব মন্তব্য করতে পারেন না, সেসব মন্তব্য কক্ষের মধ্যে করতে পারেন।

২. পার্লামেন্টের অধিবেশন বসার ৪০ দিন আগে বা ৪০ দিন পরে কোনো লর্ডকে কোনো দেওয়ানি অপরাধের জন্য আটক করা যায় না।

৩. কোনো ব্যক্তিকে অযোগ্য মনে করলে লর্ডসভা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সভার কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ নাও দিতে পারে।

৪. লর্ডসভার সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিবাদ সভার কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ করতে পারেন।

৫. সভার অবমাননার জন্য লর্ডসভা যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

৬. লর্ডসভার সদস্যগণ দেশদ্রোহিতা বা অপকর্মের জন্য অভিযুক্ত হলে সহ-পিয়ারদের দ্বারা বিচারকার্য সম্পাদনের দাবি জানাতে পারেন।

৭. লর্ডসভার প্রতিটি সদস্য রাজা বা রানীর সাথে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করতে পারেন।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা লর্ডসভার সদস্যদের বিশেষাধিকার সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। লর্ডসভা একসময় অধিকতর ক্ষমতাশালী ছিল। কিন্তু বর্তমানে এর ক্ষমতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। তারপরও লর্ডসভার সদস্যরা উল্লিখিত বিশেষাধিকারগুলো ভোগ করে থাকেন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন