ব্রিটেনের পার্লামেন্টকে সার্বভৌম বলা হয় কেন?


প্রশ্ন: ব্রিটেনের পার্লামেন্টকে সার্বভৌম বলা হয় কেন?

ভূমিকা : পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বকে ব্রিটিশ শাসনতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভরূপে গণ্য করা হয়। প্রাচীনত্ব, ক্ষমতার পরিধি, প্রয়োগক্ষেত্রের ব্যাপ্তি প্রভৃতি দিক থেকে বিচার করলে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পৃথিবীতে অনন্য। ব্রিটেনের সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর পার্লামেন্টের নিরঙ্কুশ আইনগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত।

ব্রিটেনের পার্লামেন্টকে সার্বভৌম বলার কারণ : নিম্নলিখিত কারণে ব্রিটেনের পার্লামেন্টকে সার্বভৌম বলা যায় :

১. পার্লামেন্টের ক্ষমতার উপর আদালতের এক্তিয়ার নেই : ব্রিটেনে আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের ক্ষমতাই চরম ও চূড়ান্ত। মার্কিন বিচার বিভাগের মতো ব্রিটেনের বিচার বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইনের বৈধতা বিচার করতে পারে না। আবার আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত ইচ্ছা করলে নাকচও করে দিতে পারে না।

২. শাসন বিভাগের কোনো এক্তিয়ার নেই : বর্তমানে রাজা বা রানীর ভূমিকা আনুষ্ঠানিক ও নিয়মতান্ত্রিক। সুতরাং শাসন বিভাগের দিক থেকে পার্লামেন্টের আইনগত ক্ষমতার উপর কোনো বাধা নেই।

৩. কার্যকাল বৃদ্ধি : পার্লামেন্ট তার কার্যকালের মেয়াদ বাড়াতে পারে। কার্যক্ষেত্রে পার্লামেন্ট বহুবার এ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। যেমন— ১৬৯৪ সালে প্রণীত ত্রিবার্ষিক আইন অনুসারে ৩ বছর এবং ১৭১৬ সালের সপ্তবার্ষিক আইন অনুসারে পার্লামেন্টের মেয়াদ ৭ বছরে উন্নীত করা হয়।

৪. শাসনব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন : ব্রিটিশ পার্লামেন্ট তার সার্বভৌম ক্ষমতাবলে আইনের মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করতে পারে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, Act of Settlement, Act of Union এবং একাধিক Reform Bill উল্লেখযোগ্য।

৫. বৈদেশিক ক্ষমতা : বৈদেশিক রাষ্ট্রগুলো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে ক্ষমতা ভোগ করে থাকে।

৬. দণ্ড-নিষ্কৃতি আইন পাস : ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দণ্ড-নিষ্কৃতি আইন পাস করে অতীতের অবৈধ কাজকে বৈধ বলে স্বীকার করতে পারে। শাসন বিভাগ যুদ্ধকালীন সময়ে যেসব অবৈধ কাজ সম্পাদন করে, এ আইন পাসের মাধ্যমে পার্লামেন্ট সেগুলোকে বৈধ বলে ঘোষণা করতে পারে।

৭. আন্তর্জাতিক আইন ও পার্লামেন্টের প্রাধান্য : পার্লামেন্ট প্রণীত আইন আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃত নীতিগুলো মেনে চলে কি না, এ প্রশ্ন ব্রিটিশ আদালতের নিকট অবান্তর। পার্লামেন্ট আইন করেছে— এটিই তাদের কাছে যথেষ্ট।

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌম বলার পশ্চাতে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট আইনগত দিক থেকে সার্বভৌম হলেও তা অনেকাংশে তত্ত্বসর্বস্ব। তত্ত্বগতভাবে পার্লামেন্ট খেয়ালখুশিমতো আচরণ করতে পারে না।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন