প্রশ্ন : তুলনামূলক রাজনীতি অধ্যয়নের আধুনিক পদ্ধতি বলতে কি বুঝ?
ভূমিকা: রাষ্ট্রবিজ্ঞান তুলনামূলক রাজনীতি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার করে। বিষয়গত ভিন্নতার কারণে একটি একক পদ্ধতি সর্বত্র ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রয়োজন ও বিষয়ানুযায়ী বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। পদ্ধতির ব্যবহারগত দিক থেকে তুলনামূলক রাজনীতি অধ্যয়নের প্রধান দুটি পদ্ধতির মধ্যে একটি হল আধুনিক পদ্ধতি।
তুলনামূলক রাজনীতি অধ্যয়নের আধুনিক পদ্ধতি: রাজনীতি অধ্যয়নে আধুনিক পদ্ধতির প্রচলন ঘটে মূলত ১৯০৮ সালে গ্রাহাম ওয়ারলসের (Graham Wallas) ‘Human Nature in Politics’ এবং অর্থার বেন্টলির (Arthur Bentley) ‘The Process of Government’ প্রকাশের মাধ্যমে।
আধুনিক লেখকগণ যে পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করেন, সেগুলোই আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। আধুনিক পদ্ধতি হলো সেই পদ্ধতি যা ইতিহাস, দর্শন ও আইনগত পদ্ধতির বিপরীতে আচরণবাদী, ব্যবস্থাপক, বৈজ্ঞানিক এবং মূল্যমান নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। অর্থাৎ, যে পদ্ধতি রাজনীতি বিশ্লেষণে আধুনিক বৈজ্ঞানিক বা বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, তাকে আধুনিক পদ্ধতি বলা হয়।
কিছু প্রধান আধুনিক পদ্ধতি:
১. আচরণবাদী (Behavioral) পদ্ধতি
২. সিস্টেম (System) পদ্ধতি
৩. গোষ্ঠী (Group) পদ্ধতি
৪. কাঠামো-কার্যগত (Structural-Functional) পদ্ধতি
৫. এলিট (Elite) পদ্ধতি
৬. যোগাযোগ (Communication) পদ্ধতি
মূলত, রাজনীতি অধ্যয়নে আধুনিক পদ্ধতি বলতে বোঝায় পঞ্চম দশকের পর উদ্ভাবিত ও প্রচলিত পদ্ধতিগুলো। গতানুগতিক পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে রাজনীতি অধ্যয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উপসংহার: অতএব বলা যায়, রাজনীতিতে গতিশীলতা আনতে আধুনিক পদ্ধতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা কাঠামো গঠন করা হয়, তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে পরীক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে আলোচনা-পর্যালোচনা তথ্যনির্ভর, যুক্তিনির্ভর এবং মূল্যবোধ নিরপেক্ষ হয়। সর্বোপরি, নতুন নতুন তত্ত্ব ও মতবাদ বিশ্লেষণ কাঠামোর মাধ্যমে রাজনীতি অধ্যয়নের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে।

إرسال تعليق